Home / সাহিত্য / প্রবন্ধ / বঙ্গবন্ধুর প্রত্যাবর্তন দিবস : মুজিব বর্ষ

বঙ্গবন্ধুর প্রত্যাবর্তন দিবস : মুজিব বর্ষ

রুদ্র অয়ন : ১৯৭১ সালের ২৫ মার্চ রাতে পাকিস্তানি হানাদাররা বাঙালির অবিসংবাদিত নেতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানকে তাঁর ধানমন্ডির বাসা থেকে গ্রেফতার করে নিয়ে যায়। তাঁকে পাকিস্তানের কারাগারে বন্দি করা হয়। বাঙালি যখন বঙ্গবন্ধুর ডাকে স্বাধীনতার জন্য যুদ্ধ করে, বঙ্গবন্ধু তখন পাকিস্তানের কারাগারে প্রহসনের বিচারে ফাঁসির আসামি হিসেবে মৃত্যুর প্রহর গুনছিলেন। একাত্তরের ১৬ ডিসেম্বর বাঙালিদের চূড়ান্ত বিজয় অর্জিত হওয়ার পর বিশ্বনেতারা বঙ্গবন্ধুর মুক্তির দাবিতে সোচ্চার হয়ে ওঠেন। আন্তর্জাতিক চাপে পরাজিত পাকিস্তানি শাসকগোষ্ঠী শেষ পর্যন্ত বন্দিদশা থেকে বঙ্গবন্ধুকে সসম্মানে মুক্তি দিতে বাধ্য হয়।

পাকিস্তানের বন্দিদশা থেকে মুক্তি পেয়ে ১৯৭২ সালের ১০ জানুয়ারি বেলা ১টা ৪১ মিনিটে স্বাধীন বাংলাদেশের মাটিতে পা রাখেন জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান।

স্বাধীন বাংলাদেশের স্থপতির প্রত্যাবর্তনে স্বাধীনতা সংগ্রামের বিজয় পূর্ণতা পায়।

জাতির জনক পাকিস্তানিদের হাত থেকে ছাড়া পান ১৯৭২ সালের ৭ জানুয়ারি ভোরে। ক্যালেন্ডারের পাতায় ততক্ষণে ৮ জানুয়ারি। এদিন বঙ্গবন্ধু ও ড. কামাল হোসেনকে একটি উড়োজাহাজে তুলে দেয়া হয়। সেখান থেকে স্থানীয় সময় অনুযায়ী সকাল সাড়ে ৬টায় তারা পৌঁছান লন্ডনের হিথরো বিমানবন্দরে। সকাল ১০টার পর থেকে তিনি কথা বলেন যুক্তরাজ্যের প্রধানমন্ত্রী এডওয়ার্ড হিথ, তাজউদ্দীন আহমদ, ভারতের তত্কালীন প্রধানমন্ত্রী ইন্দিরা গান্ধীসহ অনেকের সঙ্গে। পরে ব্রিটিশ বিমান বাহিনীর একটি উড়োজাহাজে করে পরদিন ৯ জানুয়ারি দেশের পথে যাত্রা করেন বঙ্গবন্ধু।

১০ তারিখ সকালে দিল্লিতে অবতরণ করেন শেখ মুজিব। সেখানে ভারতের তৎকালীন রাষ্ট্রপতি ভিভি গিরি, প্রধানমন্ত্রী ইন্দিরা গান্ধী ও তাঁর গোটা মন্ত্রিসভা, স্থানীয় সশস্ত্র বাহিনীর তিন প্রধান এবং অন্যান্য অতিথি ও তিনি দেশের জনগণের কাছ থেকে উষ্ণ সংবর্ধনা লাভ করেন সদ্য স্বাধীন বাংলাদেশের জনক শেখ মুজিবুর রহমান।

বঙ্গবন্ধু ভারতের নেতা ও জনগণের কাছে তাদের সহায়তার জন্য আন্তরিক কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করেন। নিজের এ স্বদেশ প্রত্যাবর্তনকে তিনি আখ্যায়িত করেছিলেন ‘অন্ধকার হতে আলোর পথে যাত্রা’ হিসেবে।

বঙ্গবন্ধু ঢাকা এসে পৌঁছেন ১০ জানুয়ারি। ১৬ ডিসেম্বর চূড়ান্ত বিজয়ের পর বাঙালি জাতি বঙ্গবন্ধুকে প্রাণঢালা সংবর্ধনা জানানোর জন্য আকুল হয়ে অপেক্ষায় ছিল। ঢাকা বিমানবন্দর থেকে রেসকোর্স ময়দান পর্যন্ত তাকে স্বতঃস্ফূর্ত সংবর্ধনা জানায় লাখ লাখ মানুষ। বিকাল ৫টায় রেসকোর্স ময়দানে (বর্তমানে সোহরাওয়ার্দী উদ্যান) প্রায় ১০ লাখ লোকের উপস্থিতিতে তিনি ভাষণ দেন।

বঙ্গবন্ধুর জন্মশতবার্ষিকী পালনের ব্যাপক প্রস্তুতি সামনে রেখে এবার বঙ্গবন্ধুর স্বদেশ প্রত্যাবর্তন দিবস পালিত হচ্ছে। গতকাল বেলা ৩টায় জাতীয় প্যারেড গ্রাউন্ডে মুজিব বর্ষের ক্ষণগণনা কার্যক্রমের উদ্বোধন হয়েছে।

শেয়ার করে আমাদের সঙ্গে থাকুন

Check Also

নজরুলের পুত্রবধূ উমা কাজী আর নেই

বাংলাবাজার২১ : জাতীয় কবি কাজী নজরুল ইসলামের বড় ছেলে কাজী সব্যসাচীর স্ত্রী উমা কাজী মারা …

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *