বৃহস্পতিবার , ফেব্রুয়ারি ২০ ২০২০
Home / সাহিত্য সংবাদ / পুরস্কার / ব্র্যাক ব্যাংক-সমকাল সাহিত্য পুরস্কার
ব্র্যাক ব্যাংক-সমকাল সাহিত্য পুরস্কার অনুষ্ঠানে [বাঁ থেকে] ব্র্যাক ব্যাংকের এমডি ও সিইও সেলিম আর. এফ. হোসেন, কথাশিল্পী আনোয়ারা সৈয়দ হক, কবি স্বরলিপি, কথাশিল্পী সেলিনা হোসেন, জাতীয় অধ্যাপক আনিসুজ্জামান, কবি হেলাল হাফিজ, সায়ন্তনী ত্বিষা, সমকালের ভারপ্রাপ্ত সম্পাদক মুস্তাফিজ শফি ও ফিচার সম্পাদক মাহবুব আজীজ-ছবি ::মাহবুব হোসেন নবীন

ব্র্যাক ব্যাংক-সমকাল সাহিত্য পুরস্কার

বাংলাবাজার২১ : মাত্র আট বছরেই দেশের অন্যতম প্রধান সাহিত্য পুরস্কারে পরিণত হয়েছে ব্র্যাংক ব্যাংক-সমকাল সাহিত্য পুরস্কার। দেশের সাহিত্যিকদের আরাধ্য এ পুরস্কারের অষ্টম আসর বসেছিল গত ১৫ নভেম্বর। শিল্প-সাহিত্য-সংস্কৃতির পুরোধা ব্যক্তিদের উপস্থিতিতে পুরস্কৃত করা হয় সন্‌জীদা খাতুন, সেলিনা হোসেন ও স্বরলিপিকে। জমকালো এই আয়োজনের আদ্যোপান্ত লিখেছেন সঞ্জয় ঘোষ

ব্র্যাক ব্যাংক-সমকাল সাহিত্য পুরস্কারের এবারের আয়োজন উপলক্ষে নির্মিত ভিডিওচিত্রে পুরস্কারটির জুরি বোর্ডের সভাপতি প্রখ্যাত কথাসাহিত্যিক হাসান আজিজুল হক বলেছেন, ‘পুরস্কার আর সাহিত্য এক বস্তু নয়। সাহিত্যিকরাও প্রতিযোগিতার জন্য লেখেন না।’ প্রকৃতই সাহিত্যিকরা পুরস্কার বা প্রতিযোগিতার জন্য লেখেন না। কিন্তু পুরস্কার সাহিত্যিকের কাজের প্রতি পাঠক ও সমাজের এক প্রকার স্বীকৃতির মতো কাজ করে। সাহিত্যিককে তার কাজের দিকে আরও জোরালোভাবে, অধিকতর আত্মবিশ্বাসের সঙ্গে ধাবিত হবার পেছনে শক্তি জোগায়। সেই সঙ্গে সাহিত্যিককে এবং তার কাজকে বর্ধিত আওতায় পরিচিত করাতে ভূমিকা রাখে সাহিত্য পুরস্কার। সে লক্ষ্যেই বাংলাদেশের বাংলা ভাষার সাহিত্যিকদের অনুপ্রাণিত করতে ২০১১ সালে দৈনিক সমকালের উদ্যোগে এবং ব্র্যাক ব্যাংক লিমিটেডের আর্থিক সমর্থনে প্রবর্তিত হয়েছে ‘ ব্র্যাক ব্যাংক-সমকাল সাহিত্য পুরস্কার’।

এ বছর বসেছিল ব্র্যাক ব্যাংক-সমকাল সাহিত্য পুরস্কারের অষ্টম আসর। এবার পুরস্কৃত হলেন বিশিষ্ট সাংস্কৃতিক ব্যক্তিত্ব ও লেখক সন্‌জীদা খাতুন, প্রখ্যাত কথাসাহিত্যিক সেলিনা হোসেন এবং তরুণ কবি স্বরলিপি। ২০১৮ সালে সমগ্র বছরে প্রকাশিত গ্রন্থের মধ্য থেকে পুরস্কারের জন্য জমা পড়া প্রায় পাঁচশত গ্রন্থ হতে নির্ধারিত তিনটি শাখায় নির্বাচন করা হয়েছে সেরা তিন লেখককে। দেশের প্রথিতযশা সাহিত্যিকদের নিয়ে গঠিত বিচারকমলীর বিবেচনায় তারা পুরস্কারের জন্য নির্বাচিত হয়েছেন। বিচারকম লীর প্রধান ছিলেন কথাসাহিত্যিক হাসান আজিজুল হক। অন্য সদস্যরা হচ্ছেন- কথাসাহিত্যিক সৈয়দ মনজুরুল ইসলাম, আনোয়ারা সৈয়দ হক এবং কবি হেলাল হাফিজ।

দেশের মৌলিক সাহিত্যকর্মকে স্বীকৃতি দিতে সমকালের প্রতিষ্ঠাতা সম্পাদক গোলাম সারওয়ারের প্রেরণায় একদিন যে সাহিত্য পুরস্কারের আয়োজনটি আলোর মুখ দেখেছিল; আট বছর পেরিয়ে আজ তা দেশের সবচেয়ে মর্যাদাপূর্ণ সাহিত্য পুরস্কারগুলোর মধ্যে অন্যতম হয়ে উঠেছে।

সাহিত্যের তিনটি বিভাগে এই পুরস্কার দেওয়া হয়ে থাকে। বিভাগ তিনটি হচ্ছে :এক- ‘কবিতা ও কথাসাহিত্য’, দুই- ‘প্রবন্ধ, আত্মজীবনী, ভ্রমণ ও অনুবাদ’ এবং তিন- ‘হুমায়ূন আহমেদ তরুণ সাহিত্যিক পুরস্কার’। প্রয়াত লেখক হুমায়ূন আহমেদের প্রতি শ্রদ্ধা জানিয়ে বরেণ্য এ লেখকের নামে ২০১৩ সালে তরুণ সাহিত্যিক পুরস্কারটির নাম রাখা হয়। অনূর্ধ্ব ৪০ বছর বয়সী সাহিত্যিকরা এ ক্যাটাগরিতে পুরস্কারের জন্য বিবেচিত হন। এ বয়সসীমার লেখকদের যে কোনো প্রকার সাহিত্যকর্মকেই এ পুরস্কারের জন্য বিবেচনা করা হয়। প্রবন্ধ, আত্মজীবনী, ভ্রমণ ও অনুবাদ নিয়ে মননশীল শাখা এবং কবিতা ও কথাসাহিত্য নিয়ে সৃজনশীল শাখা। এ দুই শাখাতে বিজয়ী লেখকরা প্রত্যেকে পেয়েছেন দুই লাখ টাকা অর্থমূল্যের চেক। হুমায়ূন আহমেদ তরুণ সাহিত্যিক শাখায় বিজয়ীকে প্রদান করা হয়েছে এক লাখ টাকা সমমূল্যের চেক। সেই সঙ্গে পুরস্কারপ্রাপ্ত প্রত্যেককে দেওয়া হয়েছে পদক এবং সম্মাননাপত্র।

শুক্রবার সন্ধ্যায় বঙ্গবন্ধু আন্তর্জাতিক সম্মেলন কেন্দ্রের কার্নিভাল হলে আড়ম্বরপূর্ণ অনুষ্ঠানে তাদের হাতে পুরস্কার তুলে দেওয়া হয়। অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত থেকে পুরস্কার তুলে দেন সর্বজনশ্রদ্ধেয় অধ্যাপক আনিসুজ্জামান। সমকালের ভারপ্রাপ্ত সম্পাদক মুস্তাফিজ শফির সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে বক্তৃতা করেন ব্র্যাক ব্যাংকের ব্যবস্থাপনা পরিচালক ও সিইও সেলিম আর. এফ. হোসেন, বিচারকম লীর সদস্য আনোয়ারা সৈয়দ হক এবং কবি হেলাল হাফিজ। অসুস্থতাজনিত কারণে হাসান আজিজুল হক এবং বিদেশে অবস্থান করায় সৈয়দ মনজুরুল ইসলাম অনুষ্ঠানে আসতে পারেননি। অনুষ্ঠানটি সঞ্চালনা করেন সমকালের ফিচার সম্পাদক মাহবুব আজীজ।

দেশের বরেণ্য ও প্রতিশ্রুতিশীল লেখক, কবি, শিল্পীদের অংশগ্রহণে অনুষ্ঠানস্থল পরিণত হয় মিলনমেলায়। অনুষ্ঠান শুরু হয় কবিগুরু রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের ‘স্বপ্ন’ কবিতার সঙ্গে পূজা সেনগুপ্তের নেতৃত্বে তুরঙ্গমী নৃত্যদলের মনোজ্ঞ নৃত্য পরিবেশনার মধ্য দিয়ে। এর পর জনপ্রিয় শিল্পী ফেরদৌস আরা বেশ কিছুটা সময় সুরের মূর্ছনায় আচ্ছন্ন করে রাখেন দর্শকদের। সংগীত পরিবেশনার পর ‘ব্র্যাক ব্যাংক-সমকাল সাহিত্য পুরস্কার’ নিয়ে একটি তথ্যচিত্র প্রদর্শন করা হয়। এতে ব্র্যাক ব্যাংক লিমিটেডের হেড অব কমিউনিকেশন ইকরাম কবীরের উপস্থাপনায় সমকালের ভারপ্রাপ্ত সম্পাদক মুস্তাফিজ শফি ও ব্র্যাক ব্যাংক লিমিটেডের ব্যবস্থাপনা পরিচালক ও প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা সেলিম আর. এফ. হোসেনসহ জুরি বোর্ডের চার সদস্যকে কথা বলতে দেখা যায়। তারা সৃজনশীলতার বিকাশে সাহিত্য পুরস্কারের গুরুত্ব এবং ব্র্যাক ব্যাংক-সমকাল সাহিত্য পুরস্কারের বিভিন্ন দিক নিয়ে বক্তব্য রাখেন এ তথ্যচিত্রে। তারপরই আসে সেই মাহেন্দ্রক্ষণ- পুরস্কার ঘোষণার পালা। ব্র্যাক ব্যাংক-সমকাল সাহিত্য পুরস্কারের জয়ীদের নাম মূলত এ অনুষ্ঠানেই প্রথম এবং চূড়ান্তভাবে প্রকাশ করা হয়ে থাকে।

এ বছর ‘ব্র্যাক ব্যাংক-সমকাল সাহিত্য পুরস্কার’-এর অষ্টম আয়োজনে মোট ৪৮৭টি গ্রন্থ জমা পড়ে। এর মধ্য থেকে প্রাথমিক বাছাইয়ের পর প্রতিটি ক্যাটাগরিতে নির্বাচিত সংক্ষিপ্ত তালিকায় ছয়টি করে গ্রন্থ পাঠানো হয় বিচারকমণ্ডলীর কাছে। বিচারকদের বিবেচনায় প্রবন্ধ, আত্মজীবনী, ভ্রমণ ও অনুবাদ শাখায় ‘নজরুল মানস’ গ্রন্থের জন্য বর্ষসেরা লেখক হিসেবে পুরস্কৃত হয়েছেন সন্‌জীদা খাতুন। কবিতা ও কথাসাহিত্য শাখায় ‘সাতই মার্চের বিকেল’ নামক উপন্যাসের জন্য পুরস্কৃত হয়েছেন সেলিনা হোসেন এবং ‘হুমায়ূন আহমেদ তরুণ সাহিত্যিক’ শাখায় ‘মৃত্যুর পরাগায়ন’ কাব্যগ্রন্থের জন্য পুরস্কৃত হয়েছেন কবি স্বরলিপি।

‘নজরুল মানস’ বইটি প্রকাশ করেছে নবযুগ প্রকাশনী; ‘সাতই মার্চের বিকেল’ গ্রন্থের প্রকাশক বেঙ্গল পাবলিকেশন্স এবং ‘মৃত্যুর পরাগায়ন’ কাব্যগ্রন্থটি প্রকাশিত হয়েছে অর্বাক প্রকাশনী থেকে।

দুই বিচারক আনোয়ারা সৈয়দ হক এবং হেলাল হাফিজ দর্শকমুখর এ অনুষ্ঠান মঞ্চে একে একে পুরস্কার জয়ীদের নাম ঘোষণা করেন। তারপরই পুরস্কার হাতে তুলে দেওয়ার আগে পুরস্কারপ্রাপ্ত প্রত্যেকের ওপর নির্মিত আলাদা সংক্ষিপ্ত তথ্যচিত্র প্রদর্শিত হয়।

পুরস্কারপ্রাপ্তদের লেখা থেকে এবং সম্মাননা স্মারক পাঠ করেন অভিনয় ও আবৃত্তিশিল্পী আল মনসুর, রূপা চক্রবর্তী এবং রুনা খান।

সেলিনা হোসেন ও স্বরলিপি অনুষ্ঠানে উপস্থিত থেকে পুরস্কার নিয়েছেন। তবে অসুস্থতার কারণে সন্‌জীদা খাতুন উপস্থিত হতে পারেননি। তার পক্ষে পুরস্কার নেন তার নাতনি সায়ন্তনী ত্বিষা।

প্রধান অতিথির বক্তব্যে জাতীয় অধ্যাপক আনিসুজ্জামান বলেন, সন্‌জীদা খাতুনের ‘নজরুল মানস’ বইতে কবি কাজী নজরুল ইসলামের সঙ্গে লেখকের পরিবারের নিবিড় ও ঐতিহাসিক সম্পর্ক এবং নজরুল সৃষ্টিকর্ম লেখকের নিজস্ব অসাধারণ বিশ্নেষণে সমৃদ্ধ। সেলিনা হোসেনের ‘সাতই মার্চের বিকেল’ উপন্যাসটি বাংলাদেশের ইতিহাসের একটি গুরুত্বপূর্ণ অংশ হয়ে উঠেছে। অসাধারণ বর্ণনা ও কল্পনার মিশ্রণে এটি অমূল্য সৃষ্টি হয়ে থাকবে। তরুণ কবি স্বরলিপিকে সাহিত্য জগতে স্বাগতম। তার সৃষ্টিকর্ম বলে দিচ্ছে, তিনি অনেক দূর যেতে পারেন। তার অগ্রযাত্রা অব্যাহত থাকুক। তিনি বলেন, লেখক পুরস্কারের জন্য লেখেন না ঠিকই, কিন্তু পুরস্কার লেখককে তার সৃষ্টি সম্পর্কে আত্মবিশ্বাসী করে তোলে, যেটা তাকে আরও মহৎ সৃষ্টির প্রেরণায় প্রাণিত করে।

সমকালের ভারপ্রাপ্ত সম্পাদক মুস্তাফিজ শফি বলেন, এটাই প্রত্যাশা যে যতদিন সমকাল এবং ব্র্যাক ব্যাংক থাকবে, ততদিন এই পুরস্কার অব্যাহত থাকবে। যতবারই এ পুরস্কার দেওয়ার আয়োজন করা হবে, ততবারই সমকালের প্রয়াত সম্পাদক গোলাম সারওয়ারকে স্মরণ করা হবে। তিনি বলেন, ‘সাহিত্য সৃষ্টির সঙ্গে যারা সম্পৃক্ত রয়েছেন তাদের উৎসাহিত করতে এ পুরস্কার দেওয়ার কাজটি আন্তরিকভাবে করা হচ্ছে। আমরা চাই জাতির মননচর্চায় কিছুটা হলেও অবদান রাখতে। সমকাল শুরু থেকে মুক্তিযুদ্ধের চেতনাকে ধারণ করে এগিয়ে চলেছে। মুক্তচিন্তার চর্চাকে ধারণ করে সমকাল আরও এগিয়ে যাবে। সর্বজনশ্রদ্ধেয় দু’জন ব্যক্তিত্ব এবং তরুণ, যারা পুরস্কার পেয়েছেন তাদের পুরস্কৃত করে সমকাল গর্বিত।’

ব্র্যাক ব্যাংকের ব্যবস্থাপনা পরিচালক সেলিম আর. এফ. হোসেন বলেন, দেশের সাহিত্যাঙ্গনে মর্যাদার আসনে প্রতিষ্ঠিত এই পুরস্কারের সঙ্গে থাকতে পেরে ব্র্যাক ব্যাংক গর্বিত। অত্যন্ত গর্বের বিষয় যে, এবারে পুরস্কৃত তিনজনই নারী। এটাও একটি মাইলফলক। সমকালের সঙ্গে এই পুরস্কারটি অব্যাহত রাখারও ঘোষণা দেন তিনি।

বিচারকম লীর অন্যতম সদস্য আনোয়ারা সৈয়দ হক বলেন, ২০১১ থেকে চালু হওয়া পুরস্কার এখন পর্যন্ত চালু থাকা বড় অর্জন। প্রয়াত সম্পাদক গোলাম সারওয়ারের হাতে যাত্রা শুরু করা এ পুরস্কার সমকাল এখনও গৌরবের সঙ্গে চালু রেখেছে- এটাও আনন্দের। তিনি এ পুরস্কারকে বাংলা সাহিত্যের জন্য মাইলফলক হিসেবে অভিহিত করেন।

বিচারকম লীর সদস্য কবি হেলাল হাফিজ বলেন, ব্র্যাক ব্যাংক-সমকাল সাহিত্য পুরস্কার ইতোমধ্যে বাংলা সাহিত্যের একটি নান্দনিক পুরস্কারে পরিণত হয়েছে। এবার যারা পুরস্কৃত হয়েছেন, তারা নিজেদের সৃষ্টির গুণাবলির বিচারেই পুরস্কৃত হয়েছেন।

সেলিনা হোসেন তাকে পুরস্কৃত করার জন্য সংশ্নিষ্ট সবার প্রতি কৃতজ্ঞতা জানিয়ে বলেন, এ পুরস্কার প্রবীণদের স্বীকৃতি দিচ্ছে, তরুণদের অনুপ্রাণিত করছে। বাংলা সাহিত্যচর্চাকে উৎসাহিত করতে এ পুরস্কার বিশেষভাবে অবদান রাখছে।

সন্‌জীদা খাতুনের পক্ষে পুরস্কার গ্রহণ করার পর তার পাঠানো বার্তা পাঠ করেন নাতনি সায়ন্তনী ত্বিষা। বার্তায় তিনি তাকে সম্মানিত করার জন্য সংশ্নিষ্টদের ধন্যবাদ জানান। সায়ন্তনী ত্বিষা বলেন, সন্‌জীদা খাতুন শুধু রবীন্দ্রচর্চা এবং ছায়ানটের আড়ালে পড়ে গেছেন। আসলে তার কর্মক্ষেত্র আরও বিস্তৃত। তিনি কাজী নজরুল ইসলাম ছাড়াও লিখেছেন অনেক গুরুত্বপূর্ণ ব্যক্তিত্বের ওপর।

স্বরলিপি অনুষ্ঠানে উপস্থিত হয়েছিলেন ফরিদপুর থেকে তার সদ্য ভূমিষ্ঠ কন্যাসন্তানকে নিয়ে। পুরস্কারপ্রাপ্তির পর তিনি তার অনুভূতি ব্যক্ত করে বলেন, কবিতা তার কাছে বৃক্ষের মতো, যা অনেক শাখায় ছড়িয়ে যাবে। কবিতা অনেক বড় ক্যানভাস। কখনও এটি বিশাল স্রোতের আকর হয়ে ওঠে। স্বরলিপি বলেন, এই পুরস্কার তাকে টিকে থাকতে এবং এগিয়ে যেতে সহায়তা করবে।

ব্র্যাক ব্যাংক-সমকাল সাহিত্য পুরস্কারের লক্ষ্য ও উদ্দেশ্যও তাই। বাংলা ভাষা ও সাহিত্যের বিকাশে যে সাহিত্যিকরা নিরন্তর কাজ করে চলেছেন, তাদেরকে নিয়মিত উৎসাহিত ও সম্মানিত করার জন্য এ আয়োজনটি এগিয়ে যাবে বছরের পর বছর।

সূত্র : সমকাল

পোষ্টটি 115বার পঠিত

শেয়ার করে আমাদের সঙ্গে থাকুন

Check Also

রুদ্র অয়নের গল্প “কালো ছেলে”

টিউশনি করানোর চতুর্থ দিনের মাথায় ছাত্রীর মা অনিককে ডেকে হাতে কিছু টাকা দিয়ে বলল, ‘কাল …

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *