বৃহস্পতিবার , ফেব্রুয়ারি ২৭ ২০২০
Home / ফটোগ্যালারী / মাহফুজামঙ্গল একটি ভিন্নমাত্রার কাব্যগ্রন্থ

মাহফুজামঙ্গল একটি ভিন্নমাত্রার কাব্যগ্রন্থ

কাজী রোজী : কবি মজিদ মাহমুদের ‘মাহফুজামঙ্গল’ কাব্যগ্রন্থের প্রথম কবিতা ‘কুরশিনামা’- আমার ভালো লাগা কবিতাগুলোর মধ্যে একটি প্রধান কবিতা। কবিতাটিতে বলা হয়েছে_

ক. ঈশ্বরকে ডাক দিলে মাহফুজা সামনে এসে দাঁড়ায়

আমি প্রার্থনার জন্য যতবার হাত তুলি সন্ধ্যা বা সকালে

সেই নারী এসে আমার হৃদয়-মন তোলপাড় করে যায়।

অন্য একটা কবিতায় কবি আবার বলছে_

খ. তুমি চলে যাও মাহফুজা

কাঙালের মতো আর বাড়াব না হাত

শুধু সাথে করে নিও না যদি

কোনোকালে অজান্তে করে থাকি পাপ।

এই ‘মাহফুজামঙ্গলে’ দেবী আরাধনা আছে। তবে সে শরীরী না অশরীরী তা বোঝা যায় না। যেন চর্যাপদের আলো আঁধারীত ভাষা। কখনো কবি মাহফুজাকে দেবী ভাবেন, কখনো ভাবেন একটি ভাস্কর মূর্তি। তার কাছে কবির হাজার প্রশ্ন_ কত বছর, কত মাস, কত দিন কাল তার জীবনের ওপর দিয়ে গেছে। মাহফুজা কি জানাবে সেটা? আমি একজন পাঠক হিসেবে কখনো মনে করেছি_ মাহফুজা দেবী না মানবী। তা জানার জন্য তসবির দানার মতো পড়তে হবে মজিদ মাহমুদের ‘মাহফুজামঙ্গল’। তবু ইবাদত শেষ করা যাবে না। আমি অনেকবার পড়েছি ‘মাহফুজামঙ্গল’ আর ডুবে গেছি মজিদ মাহমুদের কবিতার গভীর জলে। এখানে যেন কবি প্রতিটা কবিতাই আলোকবার্তা বিলি করেছে। মাহফুজাকে নিয়ে কবির কিছু অবিশ্বাস্য অনুভূতি আছে। এসবের পরেও যেন একজন কবিই কবি হয়ে উঠেছে। মজিদের কবিতাতে কি নেই_ সমাজনীতি, অর্থনীতি, পরিবারনীতি, রাজনীতি, মানবনীতি। ওর কবিতা পড়তে গেলেই যেন তামাম দুনিয়া আমার সামনে এসে হাজির হয়। আমি মন্ত্রমুগ্ধের মতো পড়ে চলি- মজিদ মাহমুদের কবিতা_

ক. অফুটন্ত কিংবা ফুটন্ত ডিমের মতো

আমার গলবিলে দাও আহারের পোকা…

ক. হিরোশিমা, নাগাশাকিতে পুড়ে যায়

সেখানেও তোমার মুখ বিকৃত হয় না মাহফুজা।

আমার পূর্বাপর অস্তিত্ব তুমিময় হয়ে গেছে…

এখন তোমার কুরশির নিচে

আমাকে একটু ঠাঁই দাও মাহফুজা।

প্রিয় পাঠক আপনারা সম্মোহিত হবেন না, মজিদ মাহমুদের কবিতা পড়তে পড়তে নিজেকে নিজের মধ্যে হারিয়ে ফেলবেন না। মাহফুজা দেবী না মানবী সেই প্রশ্নও তুলবেন না। শুধু জানবেন যার অস্তিত্ব জুড়ে অর্থাৎ_ কবির অস্তিত্ব জুড়ে মাহফুজার বিরলগাঁথা এইখানে, এই মুহূর্তে আছে এবং থাকবে। প্রশ্ন শুধু এই আমার, মাহফুজা কোথা থেকে এসে কবি মজিদ মাহমুদের ঘাড়ে ভর করেছে? কি আছে মাহফুজার মধ্যে যাকে আশ্রয় করে কবি তার জীবটাকেই ব্যয় করে দিলো? কবির কাছে জানতে চেয়ে ছিলাম মাহফুজা আসলে কে? সে কোনো জবাব দেয়নি শুধু হেসেছে। তবে মাহফুজার অস্তিত্ব বিদ্যমান এতে কোনো সন্দেহ নেই। কই আর কোথাও তো মাহফুজা ব্যতীত অন্য কোনোকিছুর দেখা মেলে না। যদি তাই হতো কবি কি বলতো_ মাহফুজা এবার আমি গ্রহণ করেছি ধর্মং শরণাং গচ্ছামি…

এই অসাধারণ উচ্চারণ বাংলাদেশের একেবারে পল্লী এলাকার একজন মানুষ কিভাবে ভাবতে পারে আমার কাছে তা সন্দেহ। কবি মজিদ মাহমুদ মানুষ না, ও একজন দানব, রাজা না ফেরেস্তা, যুদ্ধ না সংগ্রাম এই প্রশ্ন পাঠকের কাছে রেখে গেলাম। তবে আমি কবিকে যা কিছুই বলি না কেন সদাসত্য কথা এই যে কবি মজিদ মাহমুদ একজন মানবিক কবি। যার প্রমাণচিহ্ন কবি মজিদ মাহমুদ তার ‘মাহফুজামঙ্গল’ কাব্যগ্রন্থে রেখে গেছে।

পোষ্টটি 541বার পঠিত

শেয়ার করে আমাদের সঙ্গে থাকুন

Check Also

ভালোবাসা নিয়ে বিখ্যাত লেখকদের উক্তি

বাংলাবাজার২১ : ভালোবাসা নিয়ে বিভিন্ন সময় বিশ্বের সেরা লেখকরা বিভিন্ন রকম উক্তি দিয়েছেন। শেক্সপিয়ার থেকে …

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *