বৃহস্পতিবার , ফেব্রুয়ারি ২০ ২০২০
Home / ফটোগ্যালারী / ৯ম বাংলাদেশ বইমেলা ১ নভেম্বর শুরু হচ্ছে কলকাতায়

৯ম বাংলাদেশ বইমেলা ১ নভেম্বর শুরু হচ্ছে কলকাতায়

বাংলাবাজার২১ : কলকাতায় এবার নবম বারের মতো শুরু হচ্ছে বাংলাদেশ বইমেলা। মোহর কুঞ্জে এই বইমেলা চলবে ১০ দিন। আগামী ১ নভেম্বর (শুক্রবার) থেকে এ মেলা মেলা শুরু হয়ে শেষ হবে ১০ নভেম্বর।

এবার বাংলাদেশ বইমেলা উদ্বোধন করবেন পররাষ্ট্রমন্ত্রী ড. এ কে আবদুল মোমেন। সম্মানিত অতিথি হিসেবে উপস্থিত থাকবেন কলকাতার মেয়র এবং পশ্চিমবঙ্গ সরকারের পৌর ও নগর উন্নয়ন মন্ত্রী ফিরহাদ হাকিম, ভারতে নিযুক্ত বাংলাদেশের হাইকমিশনার সৈয়দ মোয়াজ্জেম আলী, পশ্চিমবঙ্গের বিশিষ্ট কবি শঙ্খ ঘোষ এবং বাংলা একাডেমির সাবেক মহাপরিচালক অধ্যাপক শামসুজ্জামান খান। বিশেষ অতিথি উপস্থিত থাকবেন কলকাতা পারিষদ মেয়র দেবাশিষ কুমার, বাংলাদেশ পুস্তক সমিতির সভাপতি আরিফ হোসেন এবং কলকাতার পাবলিশার্স ও বুক সেলার্স গিল্ডের সম্পাদক সুধাংশু দে।

এ মেলার যৌথ আয়োজনে রয়েছে- কলকাতায় বাংলাদেশ উপ-হাইকমিশন, বাংলাদেশ রফতানী উন্নয়ন ব্যুরো এবং বাংলাদেশ জ্ঞান এবং সৃজনশীল প্রকাশক সমিতি।

বইমেলার উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করবেন কলকাতায় নিযুক্ত বাংলাদেশের উপ-হাইকমিশনার তৌফিক হাসান। এবারের বই মেলায় বাংলাদেশের বিভিন্ন শীর্ষস্থানীয় সৃজনশীল প্রকাশনা প্রতিষ্ঠানের প্রায় ৪০টি বুকস্টল বসবে বলে জানা গেছে।

এবারের বইমেলায় অংশ নিচ্ছে বাংলাদেশের ৮২টি প্রকাশনা সংস্থা। বইমেলা শেষ হবে ১০ নভেম্বর। দশ দিনের এ বইমেলায় শুধু বই নয়, পরিবেশিত হবে বাংলাদশের নানা সাংস্কৃতিক পরিবেশনা। উৎসবমুখর এ মেলা ঘিরে কলকাতার পাঠক-ক্রেতার আগ্রহ আগের যেকোনো সময়ের চেয়ে বেড়েছে বলে জানান প্রকাশকরা।

জ্ঞান ও সৃজনশীল প্রকাশক সমিতির নির্বাহী পরিচালক, প্রকাশনা সংস্থা অনন্যার প্রধান নির্বাহী মনিরুল হক কালের কণ্ঠকে বলেন, ‘কলকাতার বাজারে এখন নিয়মিত যায় বাংলাদেশের বই। এ ছাড়া বাংলাদেশ বইমেলা ঘিরে সেখানে পাঠক ও ক্রেতার আগ্রহ বেড়েছে। বাংলাদেশের বইয়ের কাটতিও বেড়েছে।’

নিজের অভিজ্ঞতা বর্ণনা করে মনিরুল হক বলেন, ‘এক দশক আগেও বাংলাদেশের বই নিয়ে কলকাতার পাঠকসমাজে আগ্রহ কম ছিল। আগে বাংলাদেশের বইয়ের কাটতিও কম ছিল। কিন্তু এখন সেই পরিস্থিতি নেই। এ দেশের কবি-সাহিত্যিকদের বইয়ের চাহিদা কয়েক গুণ বেড়েছে।’

জানা যায়, ভাষা ও সংস্কৃতি অভিন্ন বলে পশ্চিমবঙ্গের ক্রেতা-পাঠকরা দিন দিন আগ্রহী হয়ে উঠছে এ দেশের সাহিত্যিকদের রচনায়। বিশেষ করে এ দেশের সঙ্গে যাদের নাড়ির সংযোগ রয়েছে, যারা এ দেশ ছেড়ে পশ্চিমবঙ্গে পাড়ি জমিয়েছে, তাদের মধ্যে বাংলাদেশের বইয়ের কাটতি বেশি। এ ছাড়া কলকাতার বিদগ্ধ পাঠকসমাজে বৃদ্ধি পেয়েছে এ দেশের কবি-লেখকদের বইয়ের চাহিদা।

আগে বাংলাদেশ বইমেলা অনুষ্ঠিত হতো গগণেন্দ্র আর্ট গ্যালারির দ্বিতলে। কিন্তু কয়েক বছর ধরে এই মেলার স্থান পরিবর্তন করা হয়েছে। এবারের বাংলাদেশ বইমেলা অনুষ্ঠিত হতে চলেছে মোহরকুঞ্জ অর্থাৎ রবীন্দ্রসদনে পশ্চিম দিকের মাঠে।

বাংলাদেশ বইমেলার উদ্বোধন হচ্ছে ১ নভেম্বর বিকেল ৪টায়। জমকালো আয়োজনের মধ্য দিয়ে পর্দা উঠবে মেলার। এতে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত থাকবেন পররাষ্ট্রমন্ত্রী ড. এ কে আব্দুল মোমেন। সম্মানিত অতিথি থাকবেন কলকাতা পুরসভার মহানাগরিক এবং পশ্চিমবঙ্গ সরকারের পুর ও নগরোন্নয়ন মন্ত্রী ফিরহাদ হাকিম, বাংলাদেশের হাইকমিশনার সৈয়দ মোজাম্মেল আলী, বিশিষ্ট কবি শঙ্খ ঘোষ প্রমুখ। কলকাতার উপহাইকমিশনার তৌফিক হাসানের সভাপতিত্বে এতে আরো উপস্থিত থাকবেন বাংলাদেশ জ্ঞান ও সৃজনশীল প্রকাশক সমিতিরি সভাপতি ফরিদ আহমেদ ও নির্বাহী পরিচালক মনিরুল হক। প্রতিদিন দুপুর ২টা থেকে রাত ৮টা পর্যন্ত মেলা চলবে। শনিবার ও রবিবার খোলা থাকবে দুপুর ২টা থকে সাড়ে রাত ৮টা পর্যন্ত। বইমেলার উন্মুক্ত মঞ্চে থাকবে প্রতিদিনই সাংস্কৃতিক পরিবেশনা।

ফরিদ আহমেদ বলেন, ‘প্রতিবছরই বাংলাদেশের বইয়ের চাহিদা বৃদ্ধি পাচ্ছে পশ্চিমবঙ্গে। সেখানের পাঠক ও ক্রেতারা মুখিয়ে থাকেন বাংলাদেশ বইমেলার জন্য। বইমেলায় যেমন ক্রেতা, পাঠক ও দর্শনার্থী বাড়ছে, তেমনি বাড়ছে প্রকাশনা সংস্থাও। গত বছর অংশ নিয়েছিল ষাটটির মতো প্রকাশনা সংস্থা। এবার তা আশি ছাড়িয়েছে।’

আয়োজকরা জানান, বাংলাদেশের বেশ কয়েকজন খ্যাতিমান কবি ও কথাসাহিত্যিক বাংলাদেশ বইমেলায় উপস্থিত থাকবেন। এ ছাড়া দেশের শিল্পী ও সংস্কৃতি অঙ্গনের অনেকেই বইমেলায় যাবেন।

চেইন বুক শপ বাতিঘরের কর্ণধার দীপঙ্কর দাশ বলেন, ‘বাংলাদেশের বই কলকাতায় কিভাবে বাজার দখল করতে পারে, আমরা তার চেষ্টা করে যাচ্ছি। কলকাতা থেকে যে পরিমাণ বই বাংলাদেশে আসে, সেই পরিমাণ বই কলকাতায় যায় না। এটি আমরা সব সময় বলি। কিন্তু মনে রাখতে হবে, নিজেদের বাজার নিজেদেরই তৈরি করতে হয়। আমি সেই চেষ্টা করে যাচ্ছি। আশা করছি, গোটা পশ্চিমবঙ্গে বাংলাদেশের সৃজনশীল বইয়ের বড় বাজার সৃষ্টি হবে।’

কয়েকজন প্রকাশক জানান, তথ্য-প্রযুক্তির যুগে, ফেসবুকসহ নানা সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমের ফলে বাংলাদেশের লেখক ও বই সম্পর্কে সহজেই জানতে পারছে পশ্চিমবঙ্গের পাঠকরা। যার ফলে আগ্রহও বৃদ্ধি পাচ্ছে। পাঠকও বাড়ছে। মেলার পাশাপাশি স্থায়ীভাবে পশ্চিমবঙ্গে বাংলাদেশের বই বিক্রি করার ব্যবস্থার দাবি জানান প্রকাশকরা।

সূত্র : কালের কণ্ঠ

পোষ্টটি 482বার পঠিত

শেয়ার করে আমাদের সঙ্গে থাকুন

Check Also

রুদ্র অয়নের গল্প “কালো ছেলে”

টিউশনি করানোর চতুর্থ দিনের মাথায় ছাত্রীর মা অনিককে ডেকে হাতে কিছু টাকা দিয়ে বলল, ‘কাল …

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *