বৃহস্পতিবার , ফেব্রুয়ারি ২৭ ২০২০
Home / ফটোগ্যালারী / পোশাকে ‘দুই বোন’

পোশাকে ‘দুই বোন’

বাংলাবাজার২১ // কবিগুরু কবিতায় শিহরণ জাগিয়েছেন বারবারই। গল্প-উপন্যাস দিয়ে গভীরে চিন্তা করতে শেখান তিনি। রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর ছিলেন তৎকালীন যুগ থেকেও অগ্রগামী। লেখায় তখনই তুলে ধরেছেন ফ্যাশন এবং স্টাইলের প্রকৃত সংজ্ঞা। আবার তার রেখে যাওয়া অজস্র গল্প-উপন্যাস, কবিতায় পাওয়া যায় পোশাকি এবং সমগ্র সাজসজ্জার বিবরণ। ফ্যাশনের আধুনিক সংস্করণে আধুনিক ডিজাইনারদেরও দেখা যায় সেসব বিশেষ চরিত্র নিয়ে কাজ করতে। ‘দুই বোন’ রবীন্দ্রনাথের বহুল আলোচিত একটি উপন্যাস। তার তিন বিশেষ চরিত্র শর্মিলা, ঊর্মিমালা, শশাঙ্ক। ঠিক এই জায়গাতেই কাজ করেছেন ফ্যাশন হাউস ওরাহর স্বত্বাধিকারী রুমানা চৌধুরী।

বলা হয়ে থাকে, মেয়েদের দুটি সত্তা। একটি সত্তা মা, আর অন্য সত্তাটি হচ্ছে প্রিয়া। শশাঙ্কের স্ত্রী শর্মিলা মায়ের জাত। বড় বড় শান্ত চোখ, ধীর গভীর চাহনি, জলভরা নবমেঘের মতো নধর দেহ, সি্নগ্ধ শ্যামল, সিঁথিতে সিঁদুরের অরুণরেখা, শাড়ির কালো পাড়টি প্রশস্ত, দুই হাতে মকরমুখো মোটা দুই বালা, সেই ভূষণের ভাষা প্রসাধনের ভাষা নয়, শুভ সাধনের ভাষা। শর্মিলা চরিত্রে এভাবেই সৌন্দর্য, পোশাক আর সাজসজ্জা তুলে ধরেন রবীন্দ্রনাথ। লেখকের এমন বিবরণ থেকে নিজের ডিজাইন চিন্তা খুঁজে পান রুমানা। ডিজাইনে শর্মিলা চরিত্র।

স্বামীর জীবনলোকে এমন কোনো প্রত্যন্ত দেশ নেই, যেখানে তার সাম্রাজ্যের প্রভাব শিথিল। স্ত্রীর অতি লালনের আওতায় স্বামীর মন হয়ে পড়েছে অসাবধান। ফাউনটেন কলমটা সামান্য দুর্যোগে টেবিলের কোনো অনতিলক্ষ্য অংশে ক্ষণকালের জন্য অগোচর হলে সেটা পুনরাবিষ্কারের ভার স্ত্রীর ওপরে। স্নানে যাওয়ার আগে হাতঘড়িটা কোথায় ফেলেছে শশাঙ্কর হঠাৎ সেটা মনে পড়ে না, স্ত্রীর সেটা নিশ্চিত চোখে পড়ে। ভিন্ন রঙের দুই জোড়া মোজার একেক পাটি একেক পায়ে পরে বাইরে যাওয়ার জন্য যখন সে প্রস্তুত, স্ত্রী এসে তার প্রমাদ সংশোধন করে দেয়। এমনই ছিল দুই বোন উপন্যাসের শশাঙ্ক চরিত্র। যা নিজের চিন্তার আরেক অংশে জায়গা পেয়েছে রুমানার। ডিজাইন করেছেন রবীন্দ্রনাথের দিয়ে যাওয়া শশাঙ্কের আধুনিক সংস্করণ।

দুই বোন উপন্যাসে শর্মিলার বোন ঊর্মিমালা। সংক্ষেপে ঊর্মি বলেও ডাকতে দেখা যায়। লেখকের ভাষায়, ঊর্মি বইপড়া মেয়ে, কাজ করা মেয়ে নয়। কাজকর্ম সবই ওর কাছে অনিয়মের মতো। এই সংসারের কর্মধারার ভেতরে ভেতরে যে উদ্বেগ আছে, সাধনা আছে, সে তো ওর মনে নেই_ সেই চিন্তার সূত্রটি আছে ওর দিদির মধ্যে। তাই ওর কাছে এই কাজগুলো খেলা, এক রকম ছুটি, উদ্দেশ্যবিবর্জিত উদ্যোগ। লেখকের ভাষায় ঊমির এই চরিত্রকে বলে প্রিয়া। ঠিক প্রিয়া চরিত্রের ঊর্মিমালা ফুটে ওঠে রুমানার ডিজাইনে। একইভাবে, একই সাজসজ্জা আর পোশাকে। শুধু কাপড়ে দেখা যায় আধুনিকতা।

পোষ্টটি 94বার পঠিত

শেয়ার করে আমাদের সঙ্গে থাকুন
  • 3
    Shares

Check Also

ভালোবাসা নিয়ে বিখ্যাত লেখকদের উক্তি

বাংলাবাজার২১ : ভালোবাসা নিয়ে বিভিন্ন সময় বিশ্বের সেরা লেখকরা বিভিন্ন রকম উক্তি দিয়েছেন। শেক্সপিয়ার থেকে …

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *