বৃহস্পতিবার , ফেব্রুয়ারি ২৭ ২০২০
Home / ফটোগ্যালারী / বিজয়ের রঙে

বিজয়ের রঙে

সারাহ্‌ দীনা : দেশ নিয়ে আমাদের ভালোবাসার জায়গাটা অন্যরকম। এ যেন নিজের জন্মুভূমির পরিচয় নয়। নয় শুধু ঠিকানা। দীর্ঘ নয় মাসের রক্তক্ষয়ী যুদ্ধ এনে দিয়েছে স্বাধীনতা। ত্রিশ লাখ প্রাণের বিনিময়ে পেয়েছি নিজের দেশ। কয়েক বছর ধরে বিশেষ দিনগুলো নিয়ে সব থেকে বেশি উচ্ছ্বাস দেখা যায় সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমগুলোতে। বিশেষ করে ফেসবুকে আলোড়ন তৈরি হয় বিশেষ দিনগুলো ঘিরে। ফেসবুকের প্রোফাইল ছবিতে বিজয় দিবসের জন্য পরিবর্তন আমরা দেখেছি ব্যাপকভাবে। বিশাল সংখ্যক মানুষ তাদের প্রোফাইল ছবিতে বিজয় দিবসকে স্মরণ করে পরিবর্তন করেছেন। নিজের ছবি সরিয়ে জাতীয় পতাকার ছবি দেওয়ার ধারা নতুন নয় আমাদের দেশে। দেশকে ভালোবেসে প্রিয় জাতীয় পতাকা অনেকের সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমের ছবির স্থান জুড়ে আছে। আবার বিশেষ ধরনের ভার্চুয়াল ফ্রেম, স্টিকারের ব্যবহারও দেখা যায় বিজয়ের দিনকে উপলক্ষ করে। এ সময়ের তরুণরা দেশের ক্রিকেট নিয়ে আবেগের তুঙ্গে অবস্থান করে। নিজের দেশের খেলা দেখতে স্টেডিয়াম মাতিয়ে ‘বাংলাদেশ’ ‘বাংলাদেশ’ চিৎকারের সময় বেশিরভাগ দুর্বার তরুণের গায়ে থাকে লাল-সবুজ জার্সি। এক ঝলক তাদের দিকে তাকিয়ে ভ্রম হয়। মনে হয়, আলাদা করে হাজার বাংলাদেশির জার্সি নয়, যেন এক বিশাল লাল-সবুজ পতাকা গ্যালারিজুড়ে ছেয়ে আছে।

তরুণরা ভালোবাসা শুধু মনে পোষেণ, এমন নয়। প্রকাশ করেন দারুণভাবে। তাই তো সবুজের বুকে লাল বৃত্তের টি-শার্ট, ফতুয়ার ব্যবহার সারা বছর ধরেই চোখে পড়ে। আবার, বিদেশ বিভূঁইয়ে গিয়েও দেশপ্রেমকে প্রতিনিয়ত ধারণ করার জায়গা থেকে তরুণদের ছোট্ট রুমের ছবিতে আমরা দেখতে পাই দেয়ালজুড়ে দেশের পতাকার লাল আর সবুজ। পোশাকে নয় শুধু, দেশপ্রেমের নিদর্শনস্বরূপ নানা ধরনের স্মারক পাওয়া যায় দেশীয় ফ্যাশন ব্র্যান্ডগুলোতে। মগ, ব্যান্ডানা, ব্রেসলেট, পেন্সিল হোল্ডার, ব্যাগসহ বিভিন্ন আয়োজন রয়েছে। দেশের ফ্যাশন হাউসগুলো কাজ করে বছরজুড়ে। আর যখন বিশেষ কোনো উৎসব কিংবা বিশেষ কোনো দিবস পালনের বিষয় আসে, তখন দেশীয় ফ্যাশন হাউসের ব্যস্ততার সীমা থাকে না। দেশ নিয়ে, দেশের নিজস্ব ফেব্রিক দিয়ে পণ্য তৈরির ব্যস্ততা বেড়ে যায় বহুগুণে। দেশীয় কাপড়ের সর্বোচ্চ ব্যবহার আমরা দেখতে পাই দেশি ব্র্যান্ডের পোশাকে।

বিজয় দিবসকে কেন্দ্র করে দেশীয় কাপড়ে নানা ধরনের পোশাক তৈরি করা হয়। এর মধ্যে উল্লেখযোগ্য হচ্ছে শাড়ি, সালোয়ার-কামিজ, পাঞ্জাবি, শার্ট, টি-শার্ট এবং বাচ্চাদের পোশাক। সব ধরনের পোশাকেই দেখা যায় দেশাত্মবোধের চিহ্ন। কখনও রঙে, কখনও দেশাত্মবোধ নিয়ে লেখা কোনো কবিতা কিংবা পঙ্‌ক্তি, দেশের গানের লাইন আবার কখনও বা দেশ-মায়ের বীরসন্তানের ছবি নিয়ে তৈরি করা হয় বিজয় দিবসের বিশেষ পোশাক।

অঞ্জন’সের কর্ণধার শাহীন আহমেদ এ প্রসঙ্গে বলেন, ‘অঞ্জন’স সব সময়ই পোশাক ডিজাইন ও চিন্তাভাবনায় দেশীয় ঐতিহ্য ও গর্ব করার মতো বিষয়গুলোকে বেশি গুরুত্ব দিয়ে থাকে। মহান মুক্তিযুদ্ধ ও বিজয় দিবস আমাদের জীবনে একটি বিশেষ গর্ব করার মতো বিষয়। তাই মহান বিজয় দিবসকে কেন্দ্র করে প্রতিবারের মতো অঞ্জন’স এবারও বিজয়ের পোশাক নিয়ে বিশেষ আয়োজন করেছে। মুক্তিযুদ্ধবিষয়ক ডাকটিকিট, মুক্তিযুদ্ধবিষয়ক কবিতা, ছবি, আমাদের জাতীয় ফুল শাপলা ও স্মৃতিসৌধ এবারের আয়োজনের অনুপ্রেরণা হিসেবে ব্যবহূত হয়েছে। আমাদের পতাকার রঙ লাল ও সবুজ রঙ পোশাক ডিজাইনে বেশি গুরুত্ব পেয়েছে। এবারের আয়োজনে শাড়ি, পাঞ্জাবি, মেয়েদের টপস, সালোয়ার-কামিজ, টি-শার্ট পাওয়া যাবে। এ ছাড়া শিশু-কিশোরদের জন্য থাকছে পাঞ্জাবি, শাড়ি, টি-শার্ট, ফ্রক ও সালোয়ার-কামিজ। মহান বিজয়ের এই দিনটিকে সুন্দরভাবে উদযাপন করার জন্য পোশাকগুলোর মূল্যও তুলনামূলকভাবে কম রাখা হয়েছে।’

লাল-সবুজ আমাদের প্রতিদিনের রঙ। দেশের সবুজ প্রকৃতি আর রক্তিম সূর্য থেকে নেওয়া হয়েছিল আমাদের পতাকার রঙ। সেই রঙে বিজয় উদযাপনের দিন সেজে ওঠার সুযোগ হারাতে চায় না কেউ। তাই তো দিকে দিকে বিজয় বরণের এত সাড়া। তাই তো দেশি ফ্যাশন হাউসগুলো সেজে উঠেছে পতাকার রঙে। চিরচেনা ঢঙে। বিজয়ের পোশাকজুড়ে আছে দেশের রঙ। লাল আর সবুজেই ছেয়েছে পোশাক। আছে সবুজের বিভিন্ন শেড। কিছু কিছু কাপড়ে সবুজের শেডে নিয়ে আসা হয়েছে ধানক্ষেতের রঙ। রক্ত লাল আছে পোশাকের রঙে। সঙ্গে সাদা রঙ ব্যবহার করা হয়েছে সাহায্যকারী রঙ হিসেবে। প্রাধান্যে লাল আর সবুজের মিশেলে এবারের আয়োজন। পতাকার রঙে সেজেছে ফ্যাশন হাউসগুলো।

দেশের বিজয় ছিনিয়ে আনার উৎসবে দেশের ফেব্রিকেই স্বস্তি রয়েছে সব থেকে বেশি। তাঁতে বোনা টাটকা তাঁতের শাড়ির ব্যবহার তাই থাকবেই। তা ছাড়া শাড়ি এবং পাঞ্জাবির ফেব্রিকে সুতি আর লিনেন আছে শীর্ষে। এ ছাড়া পাঞ্জাবিতে আছে খাদির ব্যবহার। কিশোর-কিশোরীদের জন্য তৈরি করা হয়েছে সুতির পোশাক।

বাজার ঘুরে দেখা গেল একাত্তরে বাংলাদেশের বিজয়কে ফুটিয়ে তোলা হয়েছে নকশায়। লাল এবং সবুজের ক্যানভাসে স্ট্ক্রিন প্রিন্ট, ব্লক, টাইডাই এবং এমব্রয়ডারির মাধ্যমে ফুটিয়ে তোলা হয়েছে নকশা। ফ্যাশন হাউস রঙ বাংলাদেশ বিজয়ের ছবিকে স্ট্ক্রিন প্রিন্টের মাধ্যমে ফুটিয়ে তুলেছে লাল-সবুজে। শাড়ি এবং পাঞ্জাবি ছাড়াও বাজারে বিজয়ের থিমে রয়েছে কুর্তি, উত্তরীয়, ব্যান্ডানা।

বিজয়ের দিনে লাল-সবুজ শাড়ির সঙ্গে সব থেকে ভালো অনুষঙ্গ হতে পারে অযুত নিযুত কাচের চুড়ি। লাল আর সবুজ রঙ চুড়ি পরে নিন দুই হাত ভরে। কপালে লাল অথবা সবুজ টিপ মানিয়ে যাবে বেশ। আবার চাইলে পরে নিতে পারেন পতাকা নকশার টিপ। বিজয়কে বেশ কিছু দেশপ্রেমী ডিজাইনার তুলে এনেছেন গহনাতেও। পতাকা নকশার আংটি, গলার মালা, কানের দুল খুঁজে নিয়ে হয়ে উঠুন দেশমাতৃকার এক অপরূপ কন্যা। ছেলেমেয়ে আলাদা না করে বেশ কিছু অনুষঙ্গ তৈরি করেছে আমাদের দেশের ফ্যাশন ব্র্যান্ডের ডিজাইনাররা। ব্যান্ডানা, ব্রেসলেট, উত্তরীয় হতে পারে যে কারও বিজয় দিবসের সঙ্গী।

বাঙালির অস্তিত্বজুড়ে গভীরভাবে আছে দেশাত্মবোধ। জীবনের সব ক্ষেত্রেই দেশের প্রতি ভালোবাসা অনুভূত হয়। আর সময় যখন বিজয় উদযাপনের, তখন আয়োজন হবেই অন্যরকম। স্বাধীনতার নানা চিহ্নের খোঁজে বেড়িয়ে আসতে পারেন। গণমাধ্যমের বিজয় উদযাপনের সঙ্গী হতে পারেন ঘরে বসেই। – সমকাল

পোষ্টটি 117বার পঠিত

শেয়ার করে আমাদের সঙ্গে থাকুন

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *