বৃহস্পতিবার , ফেব্রুয়ারি ২০ ২০২০
Home / সাহিত্য সংবাদ / ইতিহাসে আজ / শুভ জন্মদিন মার্ক টোয়েন

শুভ জন্মদিন মার্ক টোয়েন

শুভ্র মিসির : আজ ৩০ নভেম্বর, ১৮৩৫ সালের এই দিনে জন্মগ্রহণ করেন আমেরিকান কথাসাহিত্য তথা বিশ্বসাহিত্যের প্রবাদপ্রতিম সাহিত্যিক মার্ক টোয়েন। দারুণ গদ্য আর কাহিনীর নতুনত্বে তিনি সৃষ্টি করেছিলেন অনন্য সব সাহিত্যকর্ম। মৃত্যুর ১০০ বছর পরও মার্ক টোয়েন বিশ্বসাহিত্যে সমানভাবে প্রাসঙ্গিক এবং জনপ্রিয়ও বটে। মহান এই সাহিত্যিকের জন্মের ১৮৩ বছর পূর্ণ হলো আজ। তার জীবনের উল্লেখযোগ্য কয়েকটি বিষয় নিয়ে এই রচনা…

-মার্ক টোয়েন মূলত ছদ্মনাম। তা আসল নাম স্যামুয়েল ল্যাংহর্ন ক্লেমেন্স।

-স্যামুয়েল ল্যাংহর্ন ক্লেমেন্স ‘মার্ক টোয়েন’ নামে প্রথম লেখাটি লেখেন ১৮৬৩ সালে। ভার্জিনিয়া সিটি নিউজপেপারের জন্য একটি প্রবন্ধ লেখার সময় নামটি তিনি প্রথম ব্যবহার করেন।

-মার্ক টোয়েন নামে থিতু হওয়ার আগে তিনি বেশ কয়েকটি ছদ্মনামে লেখার প্রয়াস চালান। সেগুলো হলো- থমাস জেফারসন স্নোডগ্রাস, ডব্লিউ. ইপামিনোনডাস অ্যাডরাসটাস ব্লাব, সার্জেন্ট ফ্যাদম, রাম্বলার ইত্যাদি।

-মার্ক টোয়েন মাতৃগর্ভে আট মাস থেকেই পৃথিবীর আলো দেখেন। প্রিম্যাচিউর বেবি হওয়ার ফলে শৈশবজুড়ে তার শরীর ছিল বেশ ক্ষীণ। তার মা জেন এক সাক্ষাৎকারে বলেছিলেন, ছেলের ভবিষ্যৎ নিয়ে তিনি প্রাথমিকভাবে খুবই শঙ্কায় ছিলেন। মার্ক টোয়েন ছিলেন সাত ভাইবোনের মধ্যে ষষ্ঠ। তার তিন ভাইবোন শৈশবেই মারা যায়। এবং তার বাবা জন মার্শাল ক্লেমেন্স মার্ক টোয়েনের বয়স যখন ১১, তখন নিউমোনিয়ায় ভুগে মারা যান।

-বাবার মৃত্যুর ফলে মার্ক টোয়েনের প্রাতিষ্ঠানিক লেখাপড়া খুব বেশি দূর এগোয়নি। ১৮ বছর বয়সে তিনি ছাপাখানায় কাজ নেন। কাজের সুবাদে তাকে আমেরিকার বড় বড় শহরে যেতে হয়েছিল তরুণ বয়সেই। এই ভ্রমণ তার লেখক মানস গঠনে সাহায্য করেছিল।

-ছাপাখানার কাজে ইস্তফা দিয়ে মার্ক টোয়েন স্টিমবোটের পাইলট হওয়ার স্বপ্ন দেখেন। এবং স্টিমবোট পরিচালনার কাজ গ্রহণ করেন। দুই বছর স্টিমবোট পাইলট হিসেবে কাজও করেন। প্রথমদিকে তার ছোট ভাইকে এ কাজে আমন্ত্রণ জানান তিনি। দুর্ঘটনাক্রমে বয়লার বিস্ম্ফোরণে তার ছোট ভাই মৃত্যুবরণ করেন। ১৮৬১ সালে আমেরিকান গৃহযুদ্ধের কারণে তিনি এ পেশা ত্যাগ করেন।

-হ্যালির ধূমকেতুর সঙ্গে মার্ক টোয়েনের জন্ম ও মৃত্যুর যে মিল, তা সাহিত্যামোদীদের আশ্চর্য করে। ১৮৩৫ সালে হ্যালির ধূমকেতু দেখা যাওয়ার দুই সপ্তাহ পরে মার্ক টোয়েনের জন্ম। ৭৫ বছর পর ১৯১০ সালে আবার হ্যালির ধূমকেতু দেখা যাওয়ার দ্বিতীয় দিনে হার্ট অ্যাটাকে মার্ক টোয়েনের মৃত্যু হয়।

-মার্ক টোয়েনের সর্বশেষ রচনা ছিল তার আত্মজৈবনিক গ্রন্থ। মৃত্যুর ১০০ বছর পর গ্রন্থটি প্রকাশের বিষয়ে তিনি বলে যান। ফলে, ২০১০ সালে আত্মজৈবনিক গ্রন্থটি প্রকাশিত হয়।

-মার্ক টোয়েন সাহিত্যজগতে প্রথম আলোচিত হন কিছুটা সৌভাগ্যের বশে। ‘দ্য সেলিব্রেটেড জাম্পিং ফ্রগ অব ক্যালাভেরাস কাউন্টি’ শিরোনামে মার্ক টোয়েন একটি গল্প লেখেন বন্ধুর অনুরোধক্রমে। গল্পটি শেষ না হওয়ায় তা আর বইয়ে জায়গা করে নিতে পারেনি। কিন্তু তার বন্ধু এই গল্পটি ‘দ্য নিউইয়র্ক স্যাটারডে প্রেস’ সম্পাদকের কাছে পাঠিয়ে দেন। গল্পটি প্রকাশিত হওয়ার পর তার নাম সাহিত্য অঙ্গনে ছড়িয়ে পড়ে।

-নতুন প্রযুক্তির প্রতি মার্ক টোয়েনের ছিল অগাধ ভালোবাসা। প্রথম টাইপরাইটার ব্যবহার করে লেখা সাহিত্যিকদের মধ্যে তিনি অন্যতম। এবং বাসায় টেলিফোন লাইন স্থাপন করাদের মধ্যেও তিনি অন্যতম।

-১৯১০ সালের ২১ এপ্রিল মৃত্যুর আগমুহূর্তে মার্ক টোয়েন তার প্রিয় বইটি পড়ছিলেন। বইটি ছিল থমাস কারলাইলের ‘ফ্রেঞ্চ রেভ্যুলেশন’।  – সমকাল

পোষ্টটি 139বার পঠিত

শেয়ার করে আমাদের সঙ্গে থাকুন
  • 4
    Shares

Check Also

লেখক ও বীরাঙ্গনা রমা চৌধুরী আর নেই

বাংলাবাজার২১ : একাত্তরের জননী গ্রন্থের লেখক ও বীরাঙ্গনা রমা চৌধুরী আর নেই। সোমবার ভোর ৪টা …

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *